নক্ষত্রের নাবিকেরা
" নক্ষত্রের নাবিকেরা" এই পুরো বই জুড়ে ফ্লাইং সসার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
নক্ষত্রের এই নাবিকেরা আসলে কারা? কারা শুরু করেছিল অনন্ত এই মহাকাশ যাত্রা? আদিম এই মহাকাশযানগুলো আসলে কি? কারা বানিয়েছিল? তবে কি দূরে কোথাও আছে বিচিত্র কোনো নক্ষত্র সভ্যতা? পৃথিবীর ইতিহাসের রহস্যময় আর মায়াবী বিভ্রমগুলো তৈরি হল কেমন করে? তাহলে আবার আসবে ওরা- আমাদের এই নীল গ্রহে? আদিম দেবতাদের বাসভূমি কোথায়? মহাপ্লাবন কি পরিকল্পিত? পিরামিডের গায়ে আঁকা ছবিগুলোর মানে আমরা জানতে পারব? পাঁচ হাজার বছর আগের প্রাচীন পুঁথিতে আধুনিক বিমানের নিখুঁত বর্ণনা দেয়া সম্ভব হলো কী করে? বইয়ের ব্যাক কভারে এই প্রশ্নগুলো করা আছে। বইটি পড়লেই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে।উত্তরগুলো হয়তো আজগুবি,সাইন্স ফিকশন গল্পের মত লাগবে। কিন্তু লেখক চমকপ্রদ ভাবে ফ্লাইং সসার এবং প্রাচীন কিছু সভ্যতার মিথ নিয়ে আলোচনা করেছে। বেশ গতিশীল বর্ননা,যতক্ষন পড়েছি, এই বইয়ের ভিতরই ডুবে ছিলাম। প্রাচীন সভ্যতাগুলোর পৌরাণিক বিষয়গুলোকে লেখক বিজ্ঞানসম্মত ভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। পুরাণে বর্নিত দেবতারা কি আসলে গ্রহান্তরের মানুষ? যারা আমাদের থেকে জ্ঞানে বিজ্ঞানে অনেক আগানো? নাকি তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম? ফ্লাইং সসার নিয়ে প্রচলিত মুখরোচক কাহিনীগুলো এবং এই বিষয়ে যেসব থিউরি বিজ্ঞান মহলে আলোচিত হয়েছে সেগুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন লেখক। "পৃথিবী এবং ফ্লাইং সসারের রহস্যময় ইতিহাস "শিরোনামে ফ্লাইং সসার বিষয়ক আদ্যোপান্ত সমস্থ ইতিহাস সংক্ষেপে গুছিয়ে লিখেছেন এইখানে।
ঈহা প্রকাশ থেকে এই বছর ফেব্রুয়ারিতে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। বইয়ের প্রচ্ছদ এবং ওভারঅল প্রডাকশন চমৎকার। যারা সাইন্স ফিকশন কিংবা প্রাচীন সভ্যতা নিয়ে আগ্রহী,তাদের কাছে বইটি ভালো লাগবে।
ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ৪/৫

কোন মন্তব্য নেই