সিনেমা পর্যালোচনাঃদ্যা কনজ্যুরিং
কোন মা কি তার সন্তানকে হত্যা করতে পারে? যদি করে ফেলে তাহলে বুঝতে হবে সেই মা অপ্রকৃতস্থ,ভূতগ্রস্থ।সে স্বাভাবিক না। বেশ বড় ধরনের অস্বাভাবিকতা আছে তার মধ্যে। সে অশুভ শক্তির ধারক। নরকই তার প্রাপ্য স্থান।একটু আগে যে সিনেমাটা দেখলাম তার কাহিনীও এরকম এক মাকে নিয়ে যে তার সন্তানদেরকে হত্যা করতে চায়।
ছবি দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আলোচিত হরর মুভি 'দ্য কনজ্যুরিং'এর কথা বলছি। সত্য কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত এই আমেরিকান সিনেমা ২০১৩ সালে মুক্তি পায়।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৭১ সালে যখন রজার পেরোন রোড আইল্যান্ডের হ্যারিসভিলে একটি ফার্মহাউস কিনে তার স্ত্রী ক্যারোলিন পেরোন আর তাদের পাঁচ মেয়ে অ্যান্ড্রিয়া, ন্যান্সি, ক্রিস্টিন, সিন্ডি এবং এপ্রিলকে নিয়ে ঐ বাসায় শিফট করেন।প্রথম যেদিন তারা ঐ ফার্ম হাউজে আসেন তখন তাদের পোষা কুকুর ঐ বাসায় ঢুকতে অস্বীকার জানায় এবং একটা অস্বাভাবিক আচরন শুরু করে।পেরোন দম্পতি তাদের কুকুরের এহেন আচরনকে তেমন একটা আমল দেয়না।এর পরেরদিনই তাদের ছোট মেয়ে এপ্রিল বাইরে খেলতে গিয়ে ঐ কুকুরের মৃতদেহ বাড়ির পাশে আবিষ্কার করে এবং চেচামেচি জুড়ে দেয়।কিন্তু তখনও পেরোন দম্পতি কুকুরের এই হঠাৎ মৃত্যুতে অবাক হলেও এর ভিতরে যে অলৌলিক কিছু থাকতে পারে তা মনে করেনা।
কিন্তু তার পরেই কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে শুরু করে।বাসার সমস্থ ঘড়িগুলো রাত ৩ঃ০৭ বাজার সাথে সাথেই থেমে যায়।পাখিরা বাসার জানলায় অস্বাভাবিকভাবে ওড়াওড়ি করে।এমনকি একরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে ক্রিস্টিন এক অশুভ আত্মাতে প্রত্যক্ষ করে এবং চিৎকার করে সবার ঘুম ভাঙায় এবং সব খুলে বলে।এর পরের রাতে ক্যারোলিন বাসার নিচতলায় হাতের তালির শব্দ শুনতে পায়, সে শব্দের উৎস সন্ধান করতে গিয়ে ঘরের বেসমেন্টে নামে এবং অলৌকিক ভাবে ওখানে আটকা পড়ে,এবং প্রচন্ড ভয় পায়।সে চিৎকার শুরু করে এবং বেসমেন্টের দড়জা ধাক্কা দিতে থাকে।কিন্তু তার চিৎকার কারো কানে যাচ্ছিলো না কারন ঐ একই সময় বাড়ির উপর তলায় অ্যান্ড্রিয়া এবং সিন্ড্রি তাদের বেডরুমে সেই ভয়াল প্রেতকে প্রতক্ষ্য করে এবং তারাও চিৎকার চেচামেচি জুরে দেয়। শেষমেশ রজার এসে তাদের সকলকে উদ্ধার করে এবং সাময়িক সময়ের জন্য হলেও তারা সবাই ভয়মুক্ত হয়।এর পরদিনই ক্যারোলিন ডেমনোলজিস্ট ওয়ারেন দম্পতির শরানপন্ন হন এবং তারা এই কেস হাতে নেওয়ার পরপরই আস্তে আস্তে সকল রহস্য উন্মোচন হতে থাকে।তারা তদন্ত করে বের করে রোড আইল্যান্ডের এই বাড়িটি অভিশপ্ত।এই বাড়িতে অনেক হত্যা আর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।কিন্তু কেন এই হত্যা-আত্মহত্যার ঘটনাগুলো ঘটেছে? বাথশেবা কে? বাথশেবার সাথে এই ঘটনার কি সম্পর্ক?হঠাৎ করে ক্যারোলিনের আচরণে পরিবর্তন আসলো কেন? পেরোন পরিবারের মেয়েদের সাথে লরেন ওয়ারেন কালো ছায়ার উপস্থিতি অনুভব করলো কেন?কি বিপদ ঘনিয়ে আসছে পেরোন পরিবারের উপর? এবং কেন ক্যারোলিন তার মেয়েদের কে হত্যা করতে চায়? এবং শেষে কি অশুভ প্রেতাত্মার জয় হবে নাকি নাকি ভালোবাসার মাতৃস্নেহের?
কয়েকদিন আগে হরর সিনেমা"দি নান" দেখেছিলাম।সেটা বেশ ভয়েরই ছিল কিন্তু ওর থেকেও এই 'দ্য কনজ্যুরিং'অনেক ভয়ের।ছবির প্রথম এক ঘন্টায় তেমন কোন ভয় নেই হালকা হালকা ভয়ের আবহ আছে,গা ছমছমে ভাব আছে কিন্তু পরের এক ঘন্টা একেবারে হাড় কাঁপানো। ভৌতিক দৃশ্যগুলো মনে করলে এখনো গায়ে কাঁটা দেয়। হঠাৎ হঠাৎ করে আসা ভয়াল দৃশ্যের সাথে উপযুক্ত সাউন্ডের কম্বিনেশন এই সিনেমাকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।গতিশীল কাহিনী হবার কারনে দেখতে একটুও বিরক্ত লাগবে না।দুই ঘন্টা যে কখন কেঁটে যাবে বুঝতেও পারবেন না।
ছবির প্রধান দুই চরিত্র এড লরেন এবং ওয়ারেন লরেনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন যথাক্রমে প্যাট্রিক উইলসন এবং ভেরা ফারমিগা এছারাও পেরোন দম্মতির ভূমিকায় ছিলেন রন লিভিংস্টোন এবং লিলি টেইলর।ছবির পরিচালক জেমস ওয়ান। দ্য কনজ্যুরিং চলচ্চিত্র সিরিজের প্রথম চলচ্চিত্র এটি। তো যে সমস্থ ভয়প্রেমীরা এখনো এই সিনেমাটা দেখেননি তারা তারাতারি দেখে নিন এবং ভয়ের জগৎ এ প্রবেশ করুন।

কোন মন্তব্য নেই