জাবেদ রাসিনের হরর থ্রিলার "অসূয়া" পড়ে শেষ করলাম। বইয়ের নামের সাথেই এর বিষয়বস্তু নিহিত। অসূয়া অর্থ পরশ্রীকাতরতা,হিংসা। "অসূয়ার"মূল কাহিনীও মুলত এই হিংসা বিদ্ধেষকে কেন্দ্র করেই। মানুষের মনের ভিতরকার হিংসা এবং প্রতিশোধ পরায়ণতার বিষ যে অনেক খারাপ কিছু ঘটাতে পারে তার চিত্রায়নই মুলত এর কাহিনী।
এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছোট্ট মেয়ে আফসারা,প্রায় রাতেই সে দুঃস্বপ্ন দেখে এবং ভয়ার্ত মুখে জেগে ওঠে । কোন প্রতিকারেই তার দুঃস্বপ্ন দেখা বন্ধ হয়না,তার শরীর স্বাস্থ্যও ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে,এমতাবস্থায় আফসারার বাবা তৌহিদ সাহেব ইরফান নামক এক তরুন রাকিকে (যারা খারাপ জ্বিন,জাদু টোনার বিরুদ্ধে কাজ করে) নিয়ে আসেন। ইরফান এসে আফসারার চিকিৎসা শুরু করে এবং ক্রমশ বুঝতে পারে আফসারার উপর কোন খারাপ ধরনের কালো জাদু করা হয়েছে, এবং সেই জাদুর মাধ্যম হলো আফসারার কাছে থাকা এক কুৎসিত দেখতে পুতুল। এই জাদুর প্রভাব পরতে থাকে পরিবারের বাকিদের উপর। ইরফান খুব ধাঁধিয়ে যায় সে বুঝতে পারে এটি খুব ভয়ঙ্কর ধরনের জাদু।ইরফান কি পারবে আফসারা এবং তার পরিবারকে রক্ষা করতে?গল্পের প্লটটা ভালোই ছিলো কিন্তু একই কথার পুনরাবৃত্তি এবং মাঝে মাঝে কিছু অপ্রয়োজনীয় কথা পাঠকের মনোযোগ নষ্ট করবে। কিছু কিছু বর্ননা আছে যা সত্যিই ভয় পাওয়ানোর জন্য যথেষ্ঠ।বইয়ের শেষের দিকটা আমার বেশ ভালো লেগেছে বিশেষ করে শেষের প্যারাটায় একটা "শেষ হয়ে হইলো না শেষের" মত ব্যপার আছে। এই বইয়ের আরেকটা জিনিস আমার ভালো লেগেছে তা হলো বইয়ে বর্নিত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ইসলামিক এক্সরসিজমের ব্যবহার। বাংলা ভৌতিক সাহিত্যে ইসলামিক রেফারেন্স ব্যবহার একেবারেই নতুন।
মোটামুটি বলতে গেলে বইটি খারাপ না।যারা ভৌতিক সাহিত্য পছন্দ করে তাদের ভালো লাগবে।
ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ৭/১০
কোন মন্তব্য নেই