Header Ads

সিনেমা পর্যালোচনাঃ দ্যা সাউন্ড অফ মিউজিক

একটা পরিবার এবং এক নির্ভেজাল ভালোবাসার গল্প। ভন ট্রাপ পরিবারের সুখ দুঃখ এবং মারিয়া ভন ট্রাপের সরল,ছেলেমানুষী এবং তারই সাথে তার বুদ্ধিদীপ্ত আচরনের সাথে নিজেকে একাত্ম করে ফেলা যায় খুব সহজেই। ভন ট্রাপের ছেলে মেয়েদের ভিতর নিজেদের হারানো শৈশবের সুখস্মৃতিও অনুভূত হবে দর্শকদের।

এই চলচ্চিত্রের প্রায় দৃশ্যেই একটি করে সংলাপধর্মী গান ব্যবহার করা হয়েছে এবং সিনেমার প্রধান সব চরিত্রই এই গানগুলো খুব সুন্দর ভাবে দৃশ্যায়িত করেছেন। এই ছবিটা দেখার সময় "গুপি গাইন,বাঘা বাইন" "আর হিরক রাজার দেশে" সিনেমার কথা মনে হয়েছে। না কাহিনীর সাথে ঐ দুটো সিনেমার সাথে এর কোন মিল নেই,কিন্তু বৈশিষ্টের সাথে কিছু মিল আছে যেমন ঐ দুটো সিনেমাতেও কিছুক্ষন পর পর গানের দৃশ্য আছে- এখানেও তাই এবং এই গান গুলো সব সংলাপধর্মী।
এই সিনেমাতে মারিয়া ভন ট্রাপের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অস্কার জয়ী অভিনেত্রী জুলি অ্যান্ড্রুজ।এই সিনেমায় যে বছর তিনি অভিনয় করেন সেই বছরই "মেরি পপিন্স" সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার লাভ করেন তিনি। জুলি অ্যান্ড্রুজ সর্বকালের সেরা অভিনেত্রীদের ভিতর একজন। তার অনন্য সাধারন অভিনয় দক্ষতা "দ্যা সাউন্ড অব মিউজিকের" কাহিনীর দৃশ্যগুলোকে আরো জীবন্ত এবং অসাধারণ করে তুলেছ। ১৯৬৬ সালের ৩৮ তম অস্কারে "দ্যা সাউন্ড অব মিউজিক" শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার লাভ করে।


দ্য সাউন্ড অব মিউজিক ১৯৬৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি গীতিনাট্যধর্মী চলচ্চিত্র। রজার্স ও হ্যামারস্টাইন রচিত গীতনাট্য অবলম্বনে সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রবার্ট ওয়াইজ। মূল চলচ্চিত্রের রচয়িতাও এই রজার্স ও হ্যামারস্টাইন। তাদের মূল গীতনাট্যের নামও ছিল দ্য সাউন্ড অব মিউজিক। এর চিত্রনাট্য রচনা করেছেন এর্নেস্ট লেহমান।এই সিনেমার অন্যতম প্রধান চরিত্র ক্যাপ্টেন ভন ট্রাপের চরিত্রে অভিনয় করেন ক্রিস্টেফার প্লামার।


এই চলচ্চিত্রটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত। মারিয়া ভন ট্রাপের এর বিখ্যাত স্মৃতিকথা " দ্যা স্টোরি অব দ্যা ট্রাপ ফ্যামিলি সিংগারস" এই চলচ্চিত্রের মূল ভিত্তি। উল্লেখ্য তাঁর এই স্মৃতি কথা অবলম্বনে ১৯৫৬ সালে ট্রাপ ফ্যামিলি নামে একটি সিনেমা মুক্তি পায়।অবশ্য সেটি ছিল শুধু সংলাপ ধর্মী। "দ্যা সাউন্ড অব মিউজিক" চলচ্চিত্রের বেশ কিছু গানই পরবর্তীকালে আদর্শ সঙ্গীতের মর্যাদা পায় যার মধ্যে আছে "The Sound of Music", "Edelweiss", "My Favorite Things", "Climb Ev'ry Mountain" এবং "Do-Re-Mi"। এই চলচ্চিত্রটির আইএমডিবি রেটিং আট,আমার ব্যাক্তিগত রেটিং দশ।

স্পয়লার অ্যালার্টঃ সিনেমা শুরু হয় "The Sound of Music গানটি দিয়ে।শুরুতে দেখা যায় মারিয়া একজন অস্ট্রিয়ান হাসিখুশি,বেখেয়ালি এবং সরল স্বভাবের মেয়ে যে ত্রিশের দশকের কোন এক সময় সালজবার্গের ননবার্গ অ্যাবেতে নান হওয়ার জন্য অধ্যয়নরত। মাদার অ্যাবেস মারিয়াকে অবসরপ্রাপ্ত নৌ কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন জর্জ ভন ট্র্যাপের ভিলায় পাঠিয়েছেন তার সাত সন্তানের জন্য পরিচারিকা হিসেবে। লিসেল, ফ্রেডরিক, লুইসা, কার্ট, ব্রিজিটা, মার্টা এবং গ্রেটল এই সাত জন হলো ভন ট্রাপের ছেলে মেয়েরা। স্ত্রীর মৃত্যুর পর ক্যাপ্টেন কঠোর সামরিক শৃঙ্খলা ব্যবহার করে তার সন্তানদের বড় করে তুলছেন। মারিয়া প্রথমে ভন ট্রাপ ভিলায় গেলে বাচ্চারা তার সাথে দুর্ব্যবহার করে, মারিয়া এতে কিছু মনে না করে তাদের সাথে ভালো আচরন করে এবং ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতির সামাল দেয় এবং শীঘ্রই ভন ট্রাপের ছেলে মেয়েরা তাকে সম্মান করে এবং মারিয়ার সাথে তাদের ভালো বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ক্যাপ্টেন ভন ট্রাপ ভিয়েনায় দূরে থাকাকালীন, মারিয়া শিশুদের জন্য জানলার পর্দার কাপর থেকে খেলার পোশাক তৈরি করে দেয়। সেই পোশাক পড়ে বাচ্চারা মারিয়ার সাথে সালজবার্গ এবং আশেপাশের পাহাড়ে বেড়াতে যায়। বেড়ানোর সময় মারিয়া বাচ্চাদেরকে কীভাবে গান গাইতে হয় তা শেখায়। ক্যাপ্টেন যখন ধনী ব্যারোনস এলসা স্রাইডার এবং তাদের পারস্পরিক বন্ধু "আঙ্কেল" ম্যাক্স ডেটওয়াইলারের সাথে ভিলায় ফিরে আসেন, তখন তিনি মারিয়া এবং তার বাচ্চাদেরকে বাড়ির পাশের হ্রদে একটি নৌকায় চড়তে দেখে এবং ক্যাপ্টেনকে দেখে বাচ্চারা হকচকিয়ে যায় এবং তাড়াতাড়ি নৌকা ভিড়াতে গিয়ে তারা নৌকা থেকে পানিতে পড়ে যায়।বাচ্চাদের এসব ক্রিয়াকলাপ দেখে ক্যাপ্টেন ভন ট্রাপ অসন্তুষ্ট হন এবং মারিয়াকে বাচ্চাদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বকাবকি করেন এবং তাকে অ্যাবেতে ফিরে যাওয়ার আদেশ দেন। কিন্তু বাড়ির ভিতর থেকে আসা বাচ্চাদের গানের শব্দ শুনে ক্যাপ্টেনের মন নরম হয়।এবং তিনি যখন জানতে পারেন যে মারিয়া তার বাচ্চাদের গান শিখিয়েছে তখন সে মারিয়াকে তার ভিলায় থাকতে বলেন এবং খারাপ ব্যাবহারের জন্য সে মারিয়ার কাছে ক্ষমা চায়।
এভাবেই কাহিনী এগোতে থাকে, ধীরে ধীরে মারিয়ার আচরনে ক্যাপ্টেন মুগ্ধ হন এবং একসময় তিনি তার প্রেমে পড়েন এবং তারা বিয়ে করেন। তাদের বিয়ের কিছুদিন পড়েই ২য় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজে এবং হিটলারের নাৎসি বাহিনী অস্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তার করে। নাৎসি বাহিনীর একজন পদস্থ কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ভন ট্রাপকে নাৎসি বাহিনীতে যোগ দেবার জন্য মানসিক ভাবে চাপ দেয় কিন্তু ক্যাপ্টেন রাজি হয়না কারন তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক এবং অস্ট্রিয়ান জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী।কিন্তু নাৎসিরা ক্যাপ্টেনের পিছনে লাগে এবং শেষে বহু নাটকিয়তার পর ক্যাপ্টেন তার ভিলা ছেড়ে নাৎসিদের নাকের ডগা থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

দুই ঘন্টা চুয়ান্ন মিনিটের এই সিনেমাটি আমার দেখা অন্যতম সেরা একটি সিনেমা।এর কাহিনী,মনমুগ্ধকর গান গুলো এবং ভিতরের দৃশ্যপট মানু্ষের মনে দাগ কাটতে বাধ্য হবে। পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে এই চলচ্চিত্রটি উপভোগ করা যাবে।

কোন মন্তব্য নেই

luoman থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.