শেষনাগের বিষ- ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় (পাঠ প্রতিক্রিয়া )
“There are more things in Heaven and Earth, Horatio, than are dreamt of in your philosophy.”
উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের এই উক্তি দিয়েই শুরু করলাম,বইতেও এই কোটেশনটি লেখক ব্যবহার করেছেন। সত্যিই তো এই মার্ডার মিস্ট্রিটায় সব সমস্যার সমাধান হয়েছে কিন্তু ঐ পৌরাণিক রহস্যটা অমীমাংসিতই রয়ে গেলো।
লেখক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়ের লেখা প্রথম প্রাপ্তমনস্ক রহস্য উপন্যাস "শেষনাগের বিষ"। ইতিহাসের সাথে পৌরাণিক কাহিনীর মিশেল,মানুষের ভিতরকার যৌনতা আর পুলিশি তদন্তের জমজমাট বর্ননা এই বইটিকে অনন্যসাধারণ করে তুলেছে বলে মনে করি।এই উপন্যাসের প্রথম দিকে লেখক নন লিনিয়ার ন্যারেটিভে গল্প বলেছেন,বর্তমানের সাথে একই তালে অতীতের বর্ননা দিয়েছেন, রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর্দা দ্বারকানাথ ঠাকুর এবং ঠাকুরবাড়ির অজানা কিছু ইতিহাস লেখক এই গল্পের সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন,এই ইতিহাসের সাথেই রয়েছে এক অদ্ভুত মিথের গল্প, যা পাঠকদের মনে অবশ্যই কৌতুহলের উদ্রেক ঘটাবে। গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র ফিল্মতারকা কাঞ্চনকুমারের বাহির ও ভিতরের জীবনবর্ননা এবং ওনার পারিপার্শ্বিক চরিত্রগুলির ব্যাক্তিগত সম্পর্কের বিবরণ সবই প্রয়োজনমতো তুলে ধরেছেন লেখক, এবং এসবের সাথেই বর্ননা করেছেন মিস্ট্রি এবং থ্রিল।
কাহিনীর সূত্রপাত নেওরার জঙ্গলে, সেখানে এক বাংলো বানিয়ে আশ্চর্য ঔষধিগুন সম্পর্ন এক পাতার খোঁজে নিভৃত গবেষণায় মগ্ণ এককালের জনপ্রিয় ফিল্ম তারকা কাঞ্চন কুমার। বেশ নির্বিঘ্নেই তার দিন কাটছিলো, হঠাৎ করেই ফোনে অচেনা কণ্ঠের হুমকি আসে তার কাছে, বেশ ভয় পেয়ে যান কাঞ্চনকুমার,তার অতীত কি ছিলো? কেন ফিল্ম জগৎ ছেড়ে সে গবেষনার পথ বেছে নিলো? কি সত্য লুকিয়ে রেখেছে সে?
অতীতের বর্ননাতে দেখতে পাই প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ফ্রান্স থেকে কোন এক বিগ্রহ সংগ্রহ করে ভারতে পাঠায়,অদ্ভুত দর্শন ঐ ছোট বিগ্রহটি আদতে কার ? ঠাকুরবাড়ি থেকে কি করে ঐ বিগ্রহটি লাহা বাড়িতে গিয়ে পৌছালো? এর পৌরাণিক ভিত্তি আর ইতিহাসটাই বা কি?
বেয়াড়া স্বভাবের আইপিএস অফিসার জাহ্ণবী,এ কাউকে পরোয়া করে না ! তার ব্যক্তিগত জীবনও জটিল, আঁকাবাঁকা। তার উপরেই দেওয়া হল বইয়ে বর্নিত রহস্যের তদন্তের ভার। জাহ্নবী ও তার টিমের তদন্ত নিয়েই কাহিনী তার সমাপ্ত রেখায় পৌছেছে, জাহ্নবীর টিমের উল্লেখযোগ্য সদস্য বা তার দুই সহযোগী হল,বুনি আর নূর।এই বইয়ে প্রাপ্তমনস্ক উপাদান পরিমিত পরিমানেই ছিলো বিশেষ করে জাহ্নবী ও নূরের শারীরিক বর্ণনা যুক্ত শয্যাদৃশ্যের বিবরণ লেখক শালীন ভাষাতেই দিয়েছেন,এবং জাহ্নবীকে ডিস্ক্রাইব করার জন্য এটুকু বর্ননা প্রয়োজন ছিলো।
সর্বোপরি বইটি ভালো লেগেছে,গতিশীল কাহিনীর বই বরাবরই প্রিয়। এই বছরে পড়া অন্যতম সেরা একটি বই এটি, প্রচ্ছদটিও সুন্দর। বইয়ের ভূমিকাতে লেখক বলেছেন জাহ্নবীর কাহিনী নিয়ে ভবিষ্যতে তিনি আরো লিখবেন,সেই অপেক্ষাতেই রইলাম।

কোন মন্তব্য নেই