নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড় - শাহরিয়ার কবির (পাঠ প্রতিক্রিয়া)
শাহরিয়ার কবিরের লেখা "নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়" আমার অতি প্রিয় বইগুলোর মধ্যে একটি। এই বইটি প্রথম পড়ি ক্লাস টেনের প্রি টেস্ট পরিক্ষা চলাকালীন সময়ে, মনে আছে পরিক্ষার পড়া রেখে এই বইটি লুকিয়ে লুকিয়ে পড়েছিলাম।বেশ র্যান্ডমলি এই বইটি পড়ার জন্য সিলেক্ট করেছিলাম,এবং পড়া শেষ হতে অ্যাডভেঞ্চার এবং কিশোর বেলার রোমান্টিক আবহে যে মধুর অনুভূতি পেয়েছিলাম তার রেশ ছিলো অনেকদিন,সাহিত্য পাঠকে যদি খাবারের সাথে তুলনা করি তাহলে "নুলিয়াছড়ির সোনার পাহার" বইটি বেশ উপাদেয় এবং সুস্বাধু তা বলাই যায়, এরপর আরো অনেকবার এই বইটি পড়া হয়েছে এবং প্রত্যেকবারই প্রথমবারের মত সুখানুভূতি পেয়েছি।
শাহারিয়ার কবিরের লেখা কিশোর উপন্যাসগুলোর মধ্যে "নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়" সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বাংলা কিশোর সাহিত্যের অনন্য বইয়ের সাথে এর গুনমান বিচার করলে এই বইটি প্রথম সারিতেই থাকবে। বইটি পড়াকালীন সময়ে পাঠক হারিয়ে যাবে পাহাড় জঙ্গলের এক কল্পনার রাজ্যে।গল্পের মূল চরিত্র চার প্রানবন্ত অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় কিশোর কিশোরী-আবীর বাবু,ললি টুনি।
আবিরদের পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠায় বসে আবির আর বাবু সারাদিন কল্পনার পৃথিবীতে রোমাঞ্চকর অভিযানে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। একদিন আকস্মিকভাবে তাদের মনের ইচ্ছা পূরণ করতেই যেন কক্সবাজার থেকে জলপাই সবুজ খামে করে আবিরের নেলী খালার চিঠি আসে। সেই চিঠিতে তিনি আবিরদেরকে নুলিয়াছড়ির দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় বেড়াতে যাবার আমন্ত্রন জানান, সেখানে তিনি নতুন মোটেলের ব্যবসা শুরু করেছে। আবির আর বাবু নিমিষেই এই ভ্রমণের প্রস্তাব লুফে নেয় এবং বেরিয়ে পড়ে নুলিয়াছড়ির উদ্যেশ্যে। এই ভ্রমণেই আবির আর বাবুর সাথে বন্ধুত্ব হয় ঠিক তাদের বয়সীই দুই কিশোরী ললি-টুনির সাথে। টুনি প্রানচঞ্চল হলেও ললি একটু ঠান্ডা প্রকৃতির মেয়ে। নুলিয়াছড়িতে গিয়েই তারা চারজন এবং নেলী খালার কুকুর স্ক্যাটরাকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন রহস্যের সাথে জড়িয়ে পড়ে। সেখানে তারা দেখতে পায় পাহাড়ের গায়ে পুরানো রহস্যময় এক ভুতূড়ে জমিদার বাড়ি, শুনতে পায় জলদস্যুদের গুপ্তধনের আর কোন এক পাহাড়ের কোলে হারিয়ে যাওয়া সোনার খনির গুজব,দেখতে পায় আন্নাকালী পাহাড়ের চূড়ায় গা ছমছমে পুরনো ছাড়া মন্দির, সন্ধ্যার আলো আধারিতে গাছের গায়ে আঁকা মড়ার খুলির চিহ্ন আর সবশেষে কিছু দুর্ধর্ষ অপরাধীদের আনাগোণা। শেষমেশ কি হয়েছিলো আবিরদের সাথে? নেলী খালার মোটেলে ঘর ভাড়া নেওয়া ঐ দুই রহস্যময় ব্যাক্তিই বা কারা? আবিরের ঘর পালানো বড় ভাই অপু বাড়ি ছেড়ে এসে কি করে বেড়ায় এই গহীন পাহাড়ে জঙ্গলে? এই উপন্যাসে নেলী খালার বন্ধু মেজর জাহেদ বা আপাতদৃষ্টিতে ভালো মানুষ প্রভাবশালী পাকরাশীর ভূমিকাটাই বা কি?
স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কিছু চিত্র এই উপন্যাসে দেখতে পাওয়া যায়। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোকে বেশ রাজনৈতিক সচেতন দেখিয়েছেন লেখক।
এছাড়াও অ্যাডভেঞ্চারের পাশাপাশি কিশোর বেলার রোমান্টিকতাও এই কাহিনীতে হালকা উঠে এসেছে।
আগেই বলেছি বাংলা সাহিত্যের কিশোর উপন্যাসগুলোর মধ্যে এটি প্রথম সারিতেই থাকবে। কেউ কেউ এই বইতে এনিড ব্লাইটনের ফেমাস ফাইভের ছায়া দেখতে পারেন,কিন্তু কাহিনির মান ফেমাস ফাইভ থেকেও উন্নত। এক কথায় বলতে গেলে " নুলিয়াছড়ির সোনার পাহার" চমৎকার একটা বই। বইয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পাঠকদের জন্য ভালোবাসা কাজ করবে। শাহারিয়ার কবির এই বইতে এত অসাধারণ বর্ননা করেছেন যে অযান্তেই নিজেকে কেন্দ্রীয় কোন চরিত্রে কল্পনা করে ফেলা যায়। এই বইয়ের কিছু কিছু দৃশ্যের বর্ননা হলিউডের কোন অ্যাডভেঞ্চার সিনেমার দৃশ্যের মত রোমাঞ্চকর। এক আসরে শেষ করে ফেলার মতো একটি বই। প্রথমবার এই বইটি পড়া শেষে মনে হয়েছিলো, "ইশ এত তারাতারি কেন শেষ হয়ে গেল!" ছোটদের জন্য লেখা হলেও বড়দেরও বইটি ভালো লাগবে। এক কথায় আট থেকে আশি সবার পছন্দের একটি বই "নুলিয়াছড়ির সোনার পাহার"।
আবিরদের পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠায় বসে আবির আর বাবু সারাদিন কল্পনার পৃথিবীতে রোমাঞ্চকর অভিযানে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। একদিন আকস্মিকভাবে তাদের মনের ইচ্ছা পূরণ করতেই যেন কক্সবাজার থেকে জলপাই সবুজ খামে করে আবিরের নেলী খালার চিঠি আসে। সেই চিঠিতে তিনি আবিরদেরকে নুলিয়াছড়ির দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় বেড়াতে যাবার আমন্ত্রন জানান, সেখানে তিনি নতুন মোটেলের ব্যবসা শুরু করেছে। আবির আর বাবু নিমিষেই এই ভ্রমণের প্রস্তাব লুফে নেয় এবং বেরিয়ে পড়ে নুলিয়াছড়ির উদ্যেশ্যে। এই ভ্রমণেই আবির আর বাবুর সাথে বন্ধুত্ব হয় ঠিক তাদের বয়সীই দুই কিশোরী ললি-টুনির সাথে। টুনি প্রানচঞ্চল হলেও ললি একটু ঠান্ডা প্রকৃতির মেয়ে। নুলিয়াছড়িতে গিয়েই তারা চারজন এবং নেলী খালার কুকুর স্ক্যাটরাকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন রহস্যের সাথে জড়িয়ে পড়ে। সেখানে তারা দেখতে পায় পাহাড়ের গায়ে পুরানো রহস্যময় এক ভুতূড়ে জমিদার বাড়ি, শুনতে পায় জলদস্যুদের গুপ্তধনের আর কোন এক পাহাড়ের কোলে হারিয়ে যাওয়া সোনার খনির গুজব,দেখতে পায় আন্নাকালী পাহাড়ের চূড়ায় গা ছমছমে পুরনো ছাড়া মন্দির, সন্ধ্যার আলো আধারিতে গাছের গায়ে আঁকা মড়ার খুলির চিহ্ন আর সবশেষে কিছু দুর্ধর্ষ অপরাধীদের আনাগোণা। শেষমেশ কি হয়েছিলো আবিরদের সাথে? নেলী খালার মোটেলে ঘর ভাড়া নেওয়া ঐ দুই রহস্যময় ব্যাক্তিই বা কারা? আবিরের ঘর পালানো বড় ভাই অপু বাড়ি ছেড়ে এসে কি করে বেড়ায় এই গহীন পাহাড়ে জঙ্গলে? এই উপন্যাসে নেলী খালার বন্ধু মেজর জাহেদ বা আপাতদৃষ্টিতে ভালো মানুষ প্রভাবশালী পাকরাশীর ভূমিকাটাই বা কি?
স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কিছু চিত্র এই উপন্যাসে দেখতে পাওয়া যায়। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোকে বেশ রাজনৈতিক সচেতন দেখিয়েছেন লেখক।
এছাড়াও অ্যাডভেঞ্চারের পাশাপাশি কিশোর বেলার রোমান্টিকতাও এই কাহিনীতে হালকা উঠে এসেছে।
আগেই বলেছি বাংলা সাহিত্যের কিশোর উপন্যাসগুলোর মধ্যে এটি প্রথম সারিতেই থাকবে। কেউ কেউ এই বইতে এনিড ব্লাইটনের ফেমাস ফাইভের ছায়া দেখতে পারেন,কিন্তু কাহিনির মান ফেমাস ফাইভ থেকেও উন্নত। এক কথায় বলতে গেলে " নুলিয়াছড়ির সোনার পাহার" চমৎকার একটা বই। বইয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পাঠকদের জন্য ভালোবাসা কাজ করবে। শাহারিয়ার কবির এই বইতে এত অসাধারণ বর্ননা করেছেন যে অযান্তেই নিজেকে কেন্দ্রীয় কোন চরিত্রে কল্পনা করে ফেলা যায়। এই বইয়ের কিছু কিছু দৃশ্যের বর্ননা হলিউডের কোন অ্যাডভেঞ্চার সিনেমার দৃশ্যের মত রোমাঞ্চকর। এক আসরে শেষ করে ফেলার মতো একটি বই। প্রথমবার এই বইটি পড়া শেষে মনে হয়েছিলো, "ইশ এত তারাতারি কেন শেষ হয়ে গেল!" ছোটদের জন্য লেখা হলেও বড়দেরও বইটি ভালো লাগবে। এক কথায় আট থেকে আশি সবার পছন্দের একটি বই "নুলিয়াছড়ির সোনার পাহার"।

কোন মন্তব্য নেই