Header Ads

সিনেমা পর্যালোচনাঃ ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান

গল্পটি এক এক্সট্রা অর্ডিনারি প্রতারকের। যে জালিয়াতির মাধ্যমে কখনো স্কুল শিক্ষক,কখনো ডাক্তার, কখনো পাইলট, আইনজীবী কিংবা এফবিআই এজেন্ট হয়েছিলেন। কি অবাক করার মত বিষয় না? বাস্তবে কি এরকম কখনো সম্ভব? ভাবছেন সিনেমার আলাপে আবার বাস্তবের কথা টানছি কেন,কারন যেই সিনেমার কথা বলছি তা বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে।

"ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান" সিনেমাটি ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত একটি আত্মজীবনীমুলক চিত্তাকর্ষক ক্রাইম থ্রিলার। মুভিটি ফ্র্যাঙ্ক অ্যাবাগনাল জুনিয়রের সত্য গল্পের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা।
এই সিনেমার প্রধান দুই চরিত্র হলো ফ্র্যাঙ্ক অ্যাবাগনাল জুনিয়র এবং এফবিআই এজেন্ট কার্ল হ্যানরাট্টি। এই দুই চরিত্রকে পর্দায় চরিত্রায়ন করেছে যথাক্রমে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও এবং টম হ্যাঙ্কস। পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ টম হ্যাঙ্কস ও লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও-এর মাঝে যে দারুন জুটি তৈরি করেছিলেন তা সিনেমা ইতিহাসে অন্যতম সেরা।

এই সিনেমার কাহিনীটি নাট্যরস, হাস্যরস এবং সাসপেন্সের এক দারুন মিশ্রণে উন্মোচিত হয়, যার মাধ্যমে এটি দর্শকদের মাঝে আকর্ষণীয় এবং বিনোদনমূলক অবস্থার সৃষ্টি করে। সিনেমার কাহিনীটি ১৯৬০ এর দশকের। সিনেমায় দেখানো কস্টিউমস, সেট ডিজাইন এবং সাউন্ডট্র্যাক বেশ নজরকাড়া এবং এগুলো সুবিন্যস্তভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

এই সিনেমার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ফ্র্যাঙ্ক অ্যাবাগনেলের কাজের পিছনে তার মনস্তাত্ত্বিক অনুপ্রেরণা। সে অন্যদের সাথে প্রতারণা করছে,ব্যাংক জালিয়াতি করছে কিন্তু এগুলোর পিছনে তার ব্যাক্তিগত ভোগের কোন সম্পর্ক নেই,সে তার অস্থির পারিবারিক জীবনকে সুস্থ করার জন্য, তার ভাঙা পরিবারকে জোড়া লাগানোর জন্য,তার বাবা মার সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার জন্য এতসব কান্ড ঘটিয়েছিলো।

সিনেমায় ডিক্যাপ্রিও ফ্রাঙ্ক অ্যাবাগনাল হিসাবে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। বাস্তব ফ্রাঙ্ক অ্যাবাগনালের আকর্ষণ আর দুর্বলতার দিকগুলো, চরিত্রের বিভিন্ন ভূমিকা এবং ব্যক্তিত্বের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকে দৃঢ়ভাবে চিত্রিত করেছেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। আর এর জন্যেই তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সত্ত্বেও দর্শকদের মাঝে তার জন্য সহানুভূতি প্রকাশ পায়। অন্যদিকে, টম হ্যাঙ্কস এফবিআই এজেন্ট কার্ল হ্যানরাট্টিকে একজন দৃঢ়সংকল্প এবং এখানেও দর্শকদের মাঝে সহানুভূতির ইঙ্গিত দিয়ে চিত্রিত করেছেন,কারন এফবিআই এজেন্ট হওয়া সত্ত্বেও কার্ল হ্যানরাট্টি ফ্র্যাঙ্কের জীবনের কষ্ট বুঝেছিলেন এবং তিনি ফ্র্যাঙ্কের বুদ্ধিমত্তা এবং ধৈর্যশীলতার স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।


এই সিনেমাটি পুরোটা সময়েই ক্লাইম্যাক্সে ভরপুর ছিলো। ফ্রাঙ্কের মাঝে সবসময়ই তার বাবা মাকে পুনরায় একত্রিত করার একটা অনুপ্রেরণা কাজ করেছিলো যদিও তার এই অভিসন্ধি সফল হয়নি। কার্ল ও ফ্রাঙ্কের মাঝে ক্রিসমাসের রাতে কথা বলার বিষয়টা একটা সিরিজ হিসেবে কাজ করেছে। কয়েক বছর তারা প্রতি ক্রিসমাস রাতেই বাক্য বিনিময় করতো। টম এন্ড জেরির মত ফ্রাঙ্ক ও কার্লের মাঝে এক ইঁদুর-বিড়াল খেলা দেখা যায় পুরো সিনেমাজুড়ে এবং এক ক্রিসমাস রাতেই এই চোর পুলিশ খেলার সমাপ্তি ঘটে। তবুও দেখা যায় কার্ল ফ্রাঙ্ককে ছাড়তে পারে নি। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ফ্রাঙ্কের প্রতি মায়া পড়ে যায় কার্লের।শেষ কালে কার্লের ছত্রছায়াতেই ফ্রাঙ্ক থেকে যায়। কার্ল ফ্রাঙ্কের বুদ্ধিমত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে এফবিআইতে চাকরির সুযোগ দেয় এবং এর মাধ্যমে ফ্রাঙ্ক আরো অনেক ব্যাংক জালিয়াতিদের ধরতে এফবিআইকে সাহায্য করে।
ফ্রাঙ্ক যেসময় তার বাবার মৃত্যুর খবর শোনে এবং তার মাকে সে যখন অন্য এক পুরুষের সাথে সুখে সংসার করতে দেখে তখন তার মানসিক অবস্থা দর্শক মনে এক চিলতে কষ্ট এবং ভাবনার জন্ম দেবেই। যদি পুরো কাহিনীটি বিশ্লেষণ করে দেখি তাহলে একটা জিনিস দেখতে পাই তা হলো যদি ফ্রাঙ্কের মা তার বাবাকে ডিভোর্স না দিতো,যদি তাদের পরিবারটা না ভাঙতো তবে ফ্রাঙ্ককে এই জালিয়াতির জগতে প্রবেশ করতে হতোনা। তাই বলা যায় ফ্রাঙ্কের এহেন এলোমেলো জীবনের জন্য তার সম্পদলোভী মা দায়ী।

বাস্তবের ফ্রাঙ্ক অ্যাবেগনেল বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছিলেন। তার ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, এপর্যন্ত ছোট-বড় প্রায় ১৪ হাজার ব্যাংক-কোম্পানি আর্থিক নিরাপত্তা ও প্রতারণা প্রতিরোধের জন্য তার কাছ থেকে সাহায্য নিয়েছে।
সর্বোপরি এটি খুবই দ্রুতগতির একটি সিনেমা,যেকোনো সিনেমাপ্রেমী বিশেষ করে যারা ক্রাইম থ্রিলার পছন্দ করে তাদের কাছে এই সিনেমাটি উপভোগ্য হবে।

কোন মন্তব্য নেই

luoman থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.