Header Ads

ধূমাবতীর মন্দির-মনীষ মুখোপাধ্যায় (পাঠ প্রতিক্রিয়া )

বর্তমানে ভৌতিক অতিপ্রাকৃত উপন্যাসে তন্ত্র-মন্ত্র,তান্ত্রিক, সাসপেন্স,হরর, কিছুটা ইতিহাসের অংশের সমন্বয় না হলে ঠিক ঠাক জমে না।

আগের ঐ চেনা পরিচিত পুরনো বাড়ি,আত্মা ইত্যাদি প্লটের ভৌতিক গল্প এখন প্রায় অতীত।এখন অতিপ্রাকৃত কোন কাহিনী মানেই অকাল্ট থ্রিলার।

মনীষ মুখোপাধ্যায়ের "ধূমাবতীর মন্দির"ও এরকম এক অকাল্ট থ্রিলার।


বইয়ের শুরুতে দেখা যায় তেরো বছর বয়সী এক কিশোর মহেশকে,যে সন্ধ্যার সময় বাইরে থেকে খেলা শেষ করে ঘরে ফিরছিল। হঠাৎ নদীর পারের জংলা জায়গাটায় এসে কেমন যেন একটা অস্বস্তি হয় মহেশের। আশে পাশের পরিবেশটা কিরকম যেন থম মেরে যায়,চারদিকের বাতাসে বিরাজ করে এক গুমোট ভাব। মহেশ তাকিয়ে দেখে রাস্তার পাশে ঝোপ ঝাড়ের ভিতর কেমন এক অদ্ভুত ভাবে বসে আছে বিশাল আকারের ভয়ানক দর্শন একজোড়া দাঁড়কাক। কৌতুহলী মহেশ এগিয়ে যায় ঝোপটার দিকে, ওকে এগিয়ে আসতে দেখে কাক দুটো কিছুটা সরে যায় ঐ জায়গা থেকে। সামনে এগোতেই মহেশ দেখতে পায় ঝোপটার আড়ালে কিছু একটা ছোট গম্বুজের মত বেরিয়ে আছে,আর ওর সামনেই কয়েকটা পোড়া শোল মাছ গম্বুজটার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।এবং এই সময় মহেশ অনুভব করে কেউ যেন তাঁর কানে ফিসফিস করে বলছে যা, আরও এগিয়ে যা,আরো এগিয়ে যা,এক ঘোরের ভিতর পরে মহেশ অজ্ঞান হয়ে যায়....

কলকাতার কুমারেশ আর মহীতোষ সাউ তাদের পারিবারিক ব্যবসাকে বেশ ভালো ভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এই পরিবারেই একটি পারিবারিক অভিশাপ রয়েছে। এই পরিবারের যখন কারো মৃত্যুর সময় হয় তখন সকলেই রজনীগন্ধার গন্ধ পায়। একদিন কুমারেশের উপরও সেই অভিশাপ নেমে আসে। সে হঠাৎ হঠাৎ রজনীগন্ধার গন্ধ পায়।
আবার মহিতোষের মেয়ে অনন্যার আঁকা একটি চিত্র দেখে অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েন কুমারেশ এমনকি তাদের পারিবারিক গুরুদেব পর্যন্ত আতকে ওঠে ঐ ছবিটি দেখে।
কিসের অভিশাপ রয়েছে এই পরিবারের উপর?

উপরে বর্নিত এই দুটি ঘটনা কোন সূত্রে একে অপরের সাথে জড়িত, তা জানতে হলেও স্বাভাবিক ভাবেই আপনাকে বইটি পড়তে হবে।

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী তন্ত্রের দশ মহাবিদ্যার সপ্তম মহাবিদ্যা হলো ধূমাবতী, এক তান্ত্রিক হিন্দু দেবী। ক্ষুধার্ত এই দেবীর ভোগে কোনো বাছ বিচার নেই।ধূমাবতীকে বিধবা, বৃদ্ধা ও কুৎসিত বেশেই দেখানো হয়। এই দেবী কাক ও কুকুর ইত্যাদি, হিন্দু বিশ্বাস মতে অমঙ্গল জনক বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত। ধূমাবতীকে কাকপৃষ্ঠে আরোহীতা ও শ্মশাণচারিণী রূপে কল্পনা করা হয়।

বইটি বেশ তথ্যসমৃদ্ধ তা বলতেই হয়। বিশেষ করে অনেক অজানা পৌরাণিক বিষয় সমন্ধে জানা যাবে।
কাহিনিটিও বেশ গতিশীল,প্রথম থেকে শেষ অব্দি এক বেগে এগোতে থাকে,পড়তে বেশ আরাম লাগে।
পৌরাণিক গল্প, ইতিহাস আর অতিপ্রাকৃত বিষয় কে একসাথে মিশিয়ে তা সুন্দর ভাবে কাহিনিতে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।
এক কথায় এক বৈঠকে পড়ে ওঠার মত বই।



কোন মন্তব্য নেই

luoman থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.