মিথোলজিক্যাল মিস্ট্রি থ্রিলার-তিন বাহু দশ মুখ
বিশাল প্রেক্ষাপটের এক মিথোলজিক্যাল মিস্ট্রি থ্রিলার,যার পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে রহস্য,রোমাঞ্চ, খুন,ষড়যন্ত্র আর পৌরাণিক কাহিনীর ব্যখ্যা বিশ্লেষণ।
সাড়ে তিনহাজার বছরের পুরোনো এই কাহিনী, এক প্রাচীন গুপ্তসংঘ বংশ-পরম্পরায় রক্ষা করে চলেছে এমন এক গোপন সূত্র, যা প্রকাশ পেলে বদলে যাবে পুরো ভারতের ইতিহাস। একটি প্রাচীন পুঁথির তিনটি অংশের মধ্যে লুকোনো সেই সূত্র। ঘটনাচক্রে এই গোপন পুঁথির একটি অংশ হঠাৎ করে দুই সাংবাদিক বন্ধুর হাতে এসে পড়ে,ওরা প্রথম প্রথম কিছু বুঝতে না পারলেও আস্তে আস্তে এই পুঁথি খন্ডের গুরুত্ব ওরা বুঝতে শুরু করে ,এই পুঁথির সূত্র ধরে বেড়িয়ে আসতে শুরু করে অদ্ভুত আর গোপন সব তথ্য, বেরিয়ে আসে এক গুপ্তদলের কথা। এবং তখনই ওরা নিজেদের মত করে এই রহস্য সমাধানে এবং পুঁথির বাকি দুটো অংশ উদ্ধার করতে পুরোপুরি মাঠে নেমে পড়ে।কাহিনীর শুরুর দিকেই অবশ্য লেখক দশজন সদস্যের এই গুপ্তদলের কথা পাঠকদের জানিয়ে দেয়,এবং সেখান থেকেই জানা যায় এই গুপ্তদল হলো সেই গোপন গুপ্তপুঁথির রক্ষক কিন্তু কাহিনীতে দেখা যায় যে গুপ্তদলের কাছে বর্তমানে সেই গুপ্তপুঁথি নেই অর্থাৎ গুপ্তদলও সেই গোপন পুঁথি খুঁজে বেড়াচ্ছে।
আবার আরো একটা দলকে আমরা দেখতে পাই যে তারাও হন্যে হয়ে গুপ্তপুঁথি খুঁজছে এবং এই দলটিই হলো এই কাহিনীর ভিলেন দল।
ঐতিহাসিক সূত্রের সমারোহ আর পৌরাণিক সংকেতের হাত ধরে এ গল্প আমাদের এনে দাঁড় করায় এক নতুন দিগন্তের সামনে। সময় চক্র ঘুরে যায় বারাবার -ব্রিটিশ আমল ,নবাবী আমল,রাজা শশাংক এবং বিক্রমাদিত্যের আমলে পাঠককে ঘুরিয়ে আনে লেখক।
বারবার বদল হয় স্থানও কখনও পাঠক যাবে দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা আবার কখনো যাবে রিষড়া, হেদুয়া, কসবা, র্মুর্শিদাবাদ কিংবা শিলিগুড়িতে। স্থান বদলের সঙ্গে সঙ্গে জমে ওঠে গল্পের কাহিনীও।
কাহিনীর প্রধান প্রধান চরিত্রগুলো সমাজে সবার কাছে সুপরিচিত এবং প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এর মাঝেও এই চরিত্রগুলো এক অদৃশ্য ছদ্মবেশে সবার নিকট থেকে নিজেদেরকে আড়াল করে রাখে।
মূল কাহিনী মুলত দশ দিনের,এই দশ দিনের ভিতরই উন্মোচিত হয় সেই গোপন রহস্যের।
বাতিঘর প্রকাশনী থেকে প্রকাশীত ড্যান ব্রাউনের ধাঁচে লেখা এই মিথোলজিক্যাল মিস্ট্রি থ্রিলার ইতিহাস অনুসন্ধানী পাঠকদের যে ভালো লাগবে সে কথা আর বলতে হয়না। কিছু কিছু জায়গায় কিছু অপ্রয়োজনীয় কথা হয়তো এসেছে কিন্তু তাতে মূল কাহিনীতে কোন প্রভাব পড়েনি। বইটি পড়ার সময় কোন ক্লান্তি অনুভূত হয়নি যতক্ষন পড়েছি পুরো বইয়ের ভিতরই ডুবে ছিলাম।বিশেষ করে বইয়ের শেষ চমকটা সত্যিই অবাক করে দিয়েছে।
বইটি পড়ে মনে হলো এর হয়তো কোন সিক্যুয়েল আসতে পারে,সেই পর্যন্ত অপেক্ষায় রইলাম।
ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০

কোন মন্তব্য নেই